Breaking News
Home / News Headlines (Bangla) / সম্পাদকীয় কলাম সাংবাদিকতায় আজকাল

সম্পাদকীয় কলাম সাংবাদিকতায় আজকাল

[সম্পাদকীয়ঃ কলাম] বগুড়ায় সাংবাদিক জগতে মরণঘাতী করোনার প্রথম আঘাত। প্রথিতযশা সাংবাদিক বগুড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সকলের প্রিয় অধ্যাপক মোজাম্মেল হক তালুকদার আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন) । সদা মিষ্টভাষী এবং সদালাপী এই প্রবীণ সাংবাদিক ভিডিও বাংলাদেশ থেকে শুরু করে প্রায় ডজনখানেক পত্রিকায় কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক উত্তর কোণের সম্পাদক ছিলেন। এমনিতেই বার্ধক্যে তিনি অসুস্থ ছিলেন তারপর তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকদের মধ্যে অন্যতম একজন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল 74।


সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল হক তালুকদার ছিলেন তার পিতা সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু তার ছোট ভাই। ষাটের দশকে তার সাংবাদিকতা শুরু। তিনি একাধারে সাংবাদিক অন্যদিকে সরকারি কলেজের অধ্যাপক এবং লায়ন্স ক্লাব রোটারি ক্লাব সহ নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। তিনি জীবনে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। আমেরিকা ইংল্যান্ড কানাডা সহ প্রায় 26 টি দেশে তিনি ভ্রমণ করেছেন। বিশ্বভ্রমণ ছিল তার একটা একটা নেশা। তিনি একাধিকবার হজব্রত পালন করেছেন। অত্যন্ত ধর্মভীরু এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। মানুষ মাত্রই মরতে হবে। এবং সে মৃত্যু হবে আল্লাহর একান্ত ইচ্ছায়। এই মহান সাংবাদিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার পক্ষ থেকে আমি সভাপতি মির্জা সেলিম রেজা সহ সভাপতি আবদুস সাত্তার সাধারণ সম্পাদক গণেশ দাস সিনিয়র ও প্রবীণ সদস্য মতিউল ইসলাম সাদী কোষাধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ দপ্তর সম্পাদক সুমন সরদার সহ সাধারন সম্পাদক জেড এ মিলন নির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ এবং ইউনুস আলি বিবৃতি প্রদান করছি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগ্রহ)

(ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগ্রহ)

আরো সংবাদ পড়ুন :

লকডাউন তুলে দেওয়ার পর সব কিছু খোলামেলা। প্রাণঘাতী করোনা যেন নতুন করে জীবন পেয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে আনন্দ-ফূর্তির সাথে তার পছন্দমত মানুষকে আক্রান্ত করছে। আগে2 একটা জেলা নিরাপদ ছিল এখন তা নেই। করোনা ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুতবেগে। শিল্পপতি ব্যবসায়ী কোটিপতি ফকির প্রচি সাবেক মন্ত্রীসহ কেউ কেউ রেহাই পাচ্ছে না। করোনার লক্ষ্য কি তার পরিকল্পনা কি পরিষ্কার বোঝা না গেলেও তার লাইনআপ ঊর্ধ্বমুখী এবং ভিআইপি বান্ধব। মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহ আকারে বাড়ছে এভাবে চলতে থাকলে হাজার পার হয়ে যাবে অচিরেই। আক্রান্ত সীমাহীন। সরকার কাদের বুদ্ধিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বাহাদুর রাই জানেন। বোঝা যায় বুর্জোয়া শক্তির কাছে মাফিয়া শক্তির কাছে সরকার অসহায়। কেন? সে কথা বলার প্রয়োজন নেই। গণপরিবহন চলছে ভালো 60 ভাগ বৃদ্ধি। লোক গাদাগাদি। স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। আইন রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষে এটা রোধ করা সম্ভব নয়। সরকার হয়তো বুঝতে পেরেছেন যেহেতু তারা জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে পারছেন না যেহেতু সরকারের লোকজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনছেন না তারা চুরি ডাকাতি ও লুটপাটে ব্যস্ত। শেষ পর্যন্ত গোপন বিকাশ ও ব্যর্থ।




প্রধানমন্ত্রী নানাধরনের চেষ্টা করেছেন দুর্নীতি রুখতে। কিন্তু দুর্নীতির মহাসড়ক এতই শক্তিশালী যে সেটা আর সম্ভব নয়। এ টু জেড দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন। এদিকে নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারসমর্থিত বিত্তবানরাও যারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক তারা এগিয়ে আসছেন না। যারা আসলেন লোক দেখানো প্রচারমুখী। অনেকে খুশিতে গদগদ হয়ে বললেন মানবতার ফেরিওয়ালা। মানবতার ফেরিওয়ালার অর্থ কি ওরা কি বোঝে? যার যেমন খুশি তেমনি ডিগ্রী লাগিয়ে দিচ্ছে। এক একজনের জ্ঞান বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্ঞানের সাগরে অনেকে হাবুডুবু খাচ্ছেন। আত্মপ্রচার আত্মকেন্দ্রিকতা আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমরা কি ভাবছি? সরকার বলছেন আমরা উন্নত দেশে পরিণত। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী বললেন আমাদের অর্থনীতি হবে আমেরিকার মতো। কোথায় গেলো এসব বুলি? সবই ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার মত। আমাদের অর্থনীতি যদি সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হতো তাহলে অবশ্যই জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে সমর্থ হত। কিন্তু না তা হয়নি।যারা বললেন আমরা করো না চাইতে শক্তিশালী তারাও ভীত হয়ে ঘরকুনো হয়েছেন। যারা বলেছেন আমরা করো না কে প্রতিরোধ করতে পেরেছি দুঃখজনকভাবে তারাও আক্রান্ত। এরা জানেনা কোন অহংকারী টেকসই হয় না। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে যখনই যে অহংকার করেছে তাদের পতন হয়েছে। তারপরও আমাদের শিক্ষা হয়না। করোনা আক্রান্তদের কি সম্পূর্ণ চিকিৎসা হচ্ছে? সঠিক চিকিৎসা তারা পাচ্ছে? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। তবে আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি অনেকেই হাসপাতাল হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে এমনিতেই মারা যাচ্ছেন। কি নির্মম দৃশ্য! যাত্রী সংকট মুহূর্তে প্রয়োজন ছিল জাতীয় ঐক্যের। কিন্তু সেটা কি আমরা করতে পেরেছি! সরকারি একাই সবই করবেন। নিজেই সব ক্রেডিট নিবেন। কিন্তু সব জায়গায় কি গোয়ার্তুমি চলে? না চলে না। জানিনা সরকার কাজের পরামর্শ চলছেন।বুর্জোয়াদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে সাধারণ জনগণ অষ্টাংশ সীমায়। মৃত্যু মৃত্যু মৃত্যু। ঘরে ঘরে কান্নার আওয়াজ আরো তীব্রতর হচ্ছে। আপনজন আপনজনকে চিনছেন না। কড়া কড়া নাড়ে ভয়ে কাছে যাচ্ছেন না। তাই বলে কি তাই তাদের অন্তরে মায়া নেই। আছে এবং তা অন্তরে গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে। এমনি অবস্থায় আসুন না আমরা হিংসা ত্যাগ করি। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবেলা করি সব। বজ্রকঠিন ঐক্য প্রাচীর করে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং করোনার মোকাবেলা করি। মরলে একসাথে মরবো বাঁচলে একসাথে বাঁচবো। সে আশা কি আমাদের কখনো পূরণ হবে? আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত করুন ।

সম্পাদক: মীর্জা সেলিম রেজা

 

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com