Breaking News
Home / News Headlines (Bangla) / মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে সাধারণ ব্যাক্তিদের হয়রানির
April 30, 2014

মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে সাধারণ ব্যাক্তিদের হয়রানির

  • নওগাঁয়  পূর্ব শত্রুতার জেরে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে সাধারণ ব্যাক্তিদের হয়রানির  অভিযোগ  !!
    খালেদ হাসান , সিনিয়র রিপোটার ।।




[সারাদেশ] নওগাঁর পত্নীতলায় জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মিথ্যা এই চাঁদাবাজি মামলায় ৩জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

জানা গেছে, জেলার পত্নীতলা উপজেলার ডাসনগর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি মৃত. আজিম উদ্দীন মন্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমানের সাথে একই গ্রামের মৃত শাহবাজ মন্ডলের ৫ ছেলে হারুন, এজাবুল, নজরুল, আতোয়ার ও রমজান আলীর সাথে প্রায় ৬ একর জমি নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ দন্দ চলে আসছে। জমিজমা নিয়ে দন্দের ঘটনায় থানায় ও আদালতে বেশ কয়েকটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানাযায়। এরই জের ধরে গত ১৮ই মার্চ হবিবর রহমান বদী হয়ে নওগাঁ ৩নং বিজ্ঞ আমলী আদালত (পত্নীতলায়) পুনরায় শাহবাজ মন্ডলের পাঁচ ছেলের নামে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৫৮/২০২০ (মহা:)।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১১ই মার্চ বিকেল ৩টায় মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজিহাট তিন মাথার মোড়ে মামলার আসামীগণ বাদী হাবিবুর রহমানকে ও মামলার ১নং সাক্ষী মাহাদেবপুর উপজেলার বেলগট গ্রামের মৃত. গনি মন্ডলের ছেলে জিল্লুর রহমানকে আটকিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। ও গলায় ছুরি ঠেকিয়ে তাদেরকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। তাঁদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এসময় হাটের স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসমীরা পালিয়ে যায় বলে মামলা ও লিখিত জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।



পরে হবিবর রহমান এঘটনায় থানা পুলিশের দারস্থ হলে থানা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ আদালতে আইনের আশ্রয় নিতে বল্লে ঘটনার ৭ দিন পর হাবিবুর রহমান আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন ও দোকানীদের সাথে কথা বলে জানাগছে ঐ তারিখে কিংবা তার আগে পরে মোড়ে কিংবা তার আশে পাশের এলাকায় এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।
মাতাজি তিন মাথা মোড়ের হোটেল ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান ও স্থানীয় রেজাবুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দীন বলেন, মার্চের ১১তারিখ কিংবা তার আগে পরে এখানে কোন হট্টো গন্ডোগোলের মত ঘটনা ঘটেনি। হবিবর রহমান কিংবা আসামীদের এখানে কোন রকম গন্ডোগোল তো দুরে থাক এখানে তাদেরকে আমরা দেখিনি। হবিবুর রহমানকে তিন মাথার মোড়ে আটকিয়ে কেউ চাঁদাদাবী করেছে এটি সঠিক নয় সে যেই চাঁদাবাজির মামলাটি করেছে এটি সম্পূর্ন মিথ্যা।



মামলার ১নং আসামী হারুন ও ২ নং আসমী এজাবুল জানান, হবিবর রহমান আমাদের নামে যে চাঁদাবাজি মামলাটি করেছে এটি সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট একটি মামলা। আমরা হাবিবর রহমানের কাছে কোনদিন চাঁদা দাবী করিনি। পূর্ব জমি জমা সংক্রান্ত জের ধরে সে আমাদের নামে একাধিক মামলা করেছে। তারা একের পর এক মামলা করতেই থাকে। যখন কোন কিছুতেই না পারছে তখন এই মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করেছে।
২ নং আসামী এজাবুল আরো বলেন, মামলায় যে সময় ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে সেদিন আমি এলাকাতেই ছিলাম না আমি আমার শশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমরা এ মামলা সম্পর্কে কিছু জানিনা হঠাৎ একদিন থানা পুলিশ আমাদের জানায় আমাদের নামে ওয়ারেন্ট আছে। কি বিষয়ে ওয়ারেন্ট জানতে চাইলে তখন জানায় চাঁদাবাজির মামলায়। অথচ এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।
মামলার ১নং সাক্ষী জিল্লুর রহমানের কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না। তিনি কোন ভেজালে জাড়াতে চাননা সরাসরি দেখা করে কথা বলবেন বলে জানান। ঘটনায় সময় আপনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিনা জানতে চাইলে না না বলে ফোনের লাইনটি কেটে দেন তিনি।



মামলার বাদী হাবিবুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাদের আসামী করা হয়েছে তারা খুব খারাপ লোক ভংঙ্কর টাইপের তারা গত বছর ৪লাখ টাকা নিয়েছে। আবার এবছর আমাদের আটকিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। এখানে একটি দীঘি আছে তা আমরা লীজ নিয়ে চাষ করি ঐ দীঘিটি চাষ করলে তাদের চাঁদা দিতে হবে। নয়ত চাষ করতে দিবেনা বলে নানা রকম হুমকি ধামকি প্রদান করে। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, হয়ত মোড়ের দোকানদার বা স্থানীয় লোকজন সত্য কথা বলবেনা একারনে আপনাদের মিথ্যা বলেছে। ঘটনাটি সম্পুর্ন সত্য।


মামলার বিবাদী পক্ষের আইনজীবি আনিছুর রহমানের কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্পূর্ন মিথ্যা দায়ের করা একটি মামলায় কোন প্রকার জিডির কপি ছাড়া গত ১৮ই মার্চ ৩নং বিজ্ঞ আমলী আদালত (পত্নীতলার) বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম এই মামলাটি নেন। এবং তিনি নিজেই মামলার তদন্ত করার দায়ীত্ব নেন এবং ২২ তারিখে তদন্ত করে তিনি সোজাসুজি জাবানবন্দি নিয়ে আসামীদের ওয়ারেন্ট দিলেন। এবং সেই দিন ৩জন আসামী স্যালেন্ডার দিলে জামিন হওয়া আসামীকেও সোজা জেল হাজতে নিয়ে নেন। ১ ঘন্টা জামিন শুনানি করার পরেও তিনি না না করে তাদের সাজা দিয়ে দিলেন। মামলার যে মেরিট এটা জিবনেও কোন ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বাস করার কথা নয়। তিনি নিজেই মামলা নিচ্ছেন নিজেই তদন্ত করছেন এটা কতটা নিরপেক্ষ তা বুঝতেই পারছেন। এতে বোঝাযায় এখানে একটা যথেষ্ট একটা গড়মিল কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবি।

 

আরো সংবাদ পড়ুন :

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com