Breaking News
Home / News Headlines (Bangla) / আল্লাহ বলেন “তোমরা আমার যিকর কর, আমি তোমাদের যিকর করব”

আল্লাহ বলেন “তোমরা আমার যিকর কর, আমি তোমাদের যিকর করব”

[ ধর্ম জিজ্ঞাসা ] মহান আল্লাহ বলেন:
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ
“তোমরা আমার যিকর কর, আমি তোমাদের যিকর করব”। ১.
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় সাহাবী-তাবেয়ীগণ বলেন: এখানে যিকর বলতে সকল প্রকার ইবাদত ও আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজকে বুঝান হয়েছে। আল্লাহর আনুগত্য করাই বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর যিকর করা। আর বান্দাকে প্রতিদানে পুরস্কার, করুণা, শান্তি ও বরকত প্রদানই আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে যিকর করা।২ ইমাম তাবারী এ প্রসঙ্গে বলেন: “হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে সকল আদেশ প্রদান করেছি তা পালন করে এবং যা নিষেধ করেছি তা বর্জন করে তোমরা আমার আনুগত্যের মাধ্যমে আমার যিক্র কর, তাহলে আমি তোমাদেরকে আমার রহমত, দয়া ও ক্ষমা প্রদানের মাধ্যমে তোমাদের যিকর করব।” ৩.
আব্দুল্লাহ ইবনু রাবীয়াহ ইবনু আব্বাস (রা)-কে বলেন: “আল্লাহর যিকর তাঁর তাসবীহ, তাহলীল, প্রশংসা জ্ঞাপন, কুরআন তিলাওয়াত, তিনি যা নিষেধ করেছেন তাঁর কথা স্মরণ করে তা থেকে বিরত থাকা- এ সবই আল্লাহর যিকর।” ইবনু আব্বাস (রা) বলেন: “সালাত, সিয়াম ইত্যাদি সবই আল্লাহর যিকর।”

৪.
প্রখ্যাত মহিলা সাহাবী উম্মে দারদা (রা) বলেন :
“তুমি যদি সালাত আদায় কর তাও আল্লাহর যিকর , তুমি যদি সিয়াম পালন কর তবে তাও আল্লাহর যিকর । তুমি যা কিছু ভাল কাজ কর সবই আল্লাহর যিকর । যত প্রকার মন্দ কাজ তুমি পরিত্যাগ করবে সবই আল্লাহর যিকরের অন্তর্ভুক্ত। তবে সেগুলির মধ্যে উত্তম আল্লাহর তাসবীহ (‘সুবহানাল্লাহ’ বলা)।” ৫.
মহান আল্লাহ বলেন:
رِجَالٌ لا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ الله
“(আল্লার ঘরে আল্লাহর যিকরকারী মানুষগণকে) কোনো ব্যবসা বা কেনাবেচা আল্লাহর যিকর থেকে অমনোযোগী করতে পারে না।” ৬.
এ আয়াতে ‘আল্লাহর যিকরের ব্যাখ্যায় তাবেয়ী কাতাদা বলেন: “এ সকল যাকির বান্দা ব্যবসায়ে লিপ্ত থাকতেন। যখনই আল্লাহর কোনো পাওনা বা তাঁর প্রদত্ত কোনো দায়িত্ব এসে যেত তাঁরা তৎক্ষণাৎ তা আদায় করতেন। ব্যবসা বা বেচাকেনা তাঁদেরকে আল্লাহর যিকর থেকে বিরত রাখত না।” ৭.

তাবেয়ীগণ মুখের যিকরের গুরুত্ব দিতেন। তবে এগুলো নফল যিকর। কর্মে আল্লাহর বিধিবিধান না মেনে এসকল যিকর পালন করাকে তাঁরা মূল্যহীন বলে গণ্য করতেন। তাবেয়ী সাঈদ বিন জুবাঈর (৯৫ হি) বলেন :
“আল্লাহর আনুগত্যই আল্লাহর যিকর। যে তাঁর আনুগত্য করল সে তাঁর যিকর করল। আর যে আল্লাহর আনুগত্য করল না বা তাঁর বিধিনিষেধ পালন করল না, সে যত বেশিই তাসবীহ পাঠ করুক আর কুরআন তিলাওয়াত করুক সে ‘যাকির’ হিসেবে গণ্য হবে না।” ৮.
এ অর্থে রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) থেকেও একটি হাদীস বর্ণিত। তাবেয়ী খালিদ ইবনু আবী ঈমরান (১২৫ হি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেছেন :
“যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করল সে আল্লাহর যিকর করল, যদিও তার সালাত, সিয়াম ও কুরআন তিলাওয়াত কম হয়। আর যে আল্লাহর অবাধ্যতা করল সে আল্লাহকে ভুলে গেল, যদিও তার সালাত, সিয়াম ও কুরআন তিলাওয়াত বেশি হয়।” ৯.
আল্লামা আব্দুর রাঊফ মানাবী এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন : ‘এ থেকে বুঝা যায় যে, যিকরের হাকীকত আল্লাহর আনুগত্য করা, তাঁর আদেশ পালন করা ও নিষেধ বর্জন করা।’ এজন্য কোনো কোনো ওলী বলেছেন : ‘যিকরের মূল আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা বা পাপের মধ্যে লিপ্ত থেকেও মুখে আল্লাহর যিকর করে সে মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে উপহাসে লিপ্ত এবং আল্লাহর আয়াত ও বিধানকে তামাশার বস্তু হিসাবে গ্রহণ করেছে।’ ১০
তাবেয়ী হাসান বসরী বলেন : ‘আল্লাহর যিকর দুই প্রকার: প্রথম প্রকার যিকর- তোমার নিজের ও তোমার প্রভুর মাঝে মুখে জপের মাধ্যমে তাঁর যিকর করবে। এ যিকর খুবই ভাল এবং এর সাওয়াবও সীমাহীন। দ্বিতীয় প্রকার যিকর আরো উত্তম ; আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তার কাছে তাঁর যিকর করা। অর্থাৎ, আল্লাহর কথা স্মরণ করে তাঁর নিষেধ করা কর্ম থেকে বিরত থাকা।’

১১.

তাবেয়ী বিলাল ইবনু সা’দ বলেন: ‘যিকর দু প্রকার: প্রথম প্রকার জিহ্বার যিকর, এ যিকর ভাল। দ্বিতীয় প্রকার হালাল-হারাম ও বিধিনিষেধের যিকর। সকল কর্মের সময় আল্লাহর আদেশ নিষেধ মনে রাখা। এ যিকর সর্বোত্তম।’ ১২.
তাবেয়ী মাসরূক বলেন : ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তির ক্বলব আল্লাহর স্মরণে রত আছে, ততক্ষণ সে মূলত সালাতের মধ্যে রয়েছে, যদিও সে বাজারের মধ্যে থাকে।’১৩. অন্য তাবেয়ী আবু উবাইদাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ বলেন: ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তির অন্তর আল্লাহর স্মরণে রত থাকে, ততক্ষণ সে মূলত সালাতের মধ্যেই রয়েছে। যদি এর সাথে তার জিহ্বা ও দুই ঠোঁট নড়াচড়া করে (অর্থাৎ, মনের স্মরণের সাথে সাথে যদি মুখেও উচ্চারণ করে) তাহলে তা হবে খুবই ভাল, বেশি কল্যাণময়।’ ১৪.
————————————–
১.সূরা বাকারা : ১৫২।
২. তাবারী, তাফসীরে তাবারী ২/৩৭।
৩.তাবারী, তাফসীরে তাবারী ২/৩৭।
৪.তাবারী, তাফসীরে তাবারী ২০/১৫৬।
৫.তাবারী, তাফসীরে তাবারী ২০/১৫৭।
৬.সূরা নূর : ৩৭।
৭.বুখারী (৩৯-কিতাবুল বুয়ূ, ৮-বাব তিজারাহ ফিল র্বির) ২/৭২৬, ২/৭২৮; ভারতীয় ১/২৭৭।
৮.যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৪/৩২৬।
তাবেয়ী খালিদ পর্যন্ত সনদ সহীহ। তবে হাদীসটি মুরসাল। ঠিক এ শব্দে ও অর্থে অন্য সনদে সাহাবী ওয়াকিদ (রা) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত। এ সনদটিতে কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই, কিন্তু সনদটি দুর্বল। দুটি পৃথক সনদে বর্ণিত হওয়াতে হাদীসটির নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। সম্ভবত এ কারণে ইমাম সুয়ূতী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আলবানী হাদীসটিকে যয়ীফ বলেছেন। তাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর ২২/১৫৪; বাইহাকী, শুআবুল ইমান ১/৪৫২, ইবনুল মুবারাক, কিতাবুয যুহদ ১/১৭; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২৫৮; আব্দুর রাউফ মুনাবী, ফাইযুল কাদীর ৬/৭০, আলবানী, যয়ীফুল জামিয়িস সাগীর, পৃ. ৭৮৫।
৯.মুনাবী, ফাইযুল কাদীর ৬/৭০।
১০.গাযালী, এহ্ইয়াউ উলূমুদ্দীন ১/৩৫১।
১১.বাইহাকী, শু’আবুল ঈমান ১/৪৫২।
১২.বাইহাকী, শু’আবুল ঈমান ১/৪৫৩।
১৩.বাইহাকী, শু’আবুল ঈমান ১/৪৫৩।

অবৈধ উপার্জনে আল্লাহ বরকত দেন না। রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি বৈধ পন্থায় ধনসম্পদ গ্রহণ করে তার সম্পদে বরকত দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি অবৈধভাবে কোনো সম্পদ গ্রহণ করে তার উদাহরণ হলো সে ব্যক্তির মত যে খায় অথচ পরিতৃপ্ত হয় না।” ১.
বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, কোনো পাপ দিয়ে অন্য পাপ মোচন করা যায় না। এজন্য অবৈধ উপার্জন থেকে ব্যয় করলে আল্লাহ বরকত দেন না। উত্তরাধিকারীদের জন্য তা রেখে গেলে তা তার নিজের জাহান্নামের পাথেয় হয়। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেন,
“যে ব্যক্তি অবৈধভাবে সম্পদ সঞ্চয় করে এরপর তা দান করবে, সে এই দানের জন্য কোনো সাওয়াব পাবে না এবং তার পাপ তাতে ভোগ করতে হবে।” ২.

ইবনু আব্বাস (রা) কে প্রশ্ন করা হয়, ‘একব্যক্তি একটি প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিল। তখন সে যুলুম করে ও অবৈধভাবে ধনসম্পদ উপার্জন করে। পরে সে তাওবা করে এবং সেই সম্পদ দিয়ে হজ্জ করে, দান করে এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে।’ তখন ইবন আব্বাস বলেন, ‘হারাম বা পাপ কখনো পাপমোচন করে না। বরং হালাল টাকা থেকে ব্যয় করলে পাপ মোচন হয়।’ ৩.
ইবনু উমার (রা) কে বসরার এক গভর্ণর প্রশ্ন করেন, আমরা যে এত জনহিতকর কাজ করি এর জন্য কি কোনো সাওয়াব পাব না? তিনি উত্তরে বলেন, আপনি কি জানেন না যে, কোনো পাপ কখনো কোনো পাপমোচন করতে পারে না? আপনাদের এইরূপ দান-খয়রাতের উদাহরণ হলো, এক ব্যক্তি এক হাজীর বাহন উটটি চুরি করে তাতে চড়ে জিহাদে শরীক হয়েছে, তার এই ইবাদত কি কবুল হতে পারে?” ৪.
——————————————–
১.মুসলিম, আস-সহীহ ২/৭২৭।
২. ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ ৮/১১, ১৫৩; হাইসামী, মাওয়ারিদুয যামআন ৩/১৯, ১৩৩। হাদীসটির সনদ শক্তিশালী।
৩. ইবনু রাজাব, জামিউল উলূম, ১২৭ পৃ
৪.ইবনু রাজাব হাম্বালী, জামিউল উলূম, ১২৭ পৃ।

আমরা ব্যক্তিগতভাবে এবং জাতিগতভাবে ঋণ, সাহায্য, ত্রাণ, শ্রমহীন কর্ম ইত্যাদিকে ভালবাসি। অথচ আমাদের একমাত্র আদর্শ রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) শ্রমবিমুখতা ঘৃণা করেছেন। বেকার থাকা, পরনির্ভর থাকা, অন্যের সাহায্যের আশায় থাকা ইত্যাদি বর্জন করে শ্রমের মাধ্যমে নিজে স্বাবলম্বী হতে উম্মাতকে বারংবার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিন বলেন,
তোমাদের কারো জন্য উত্তম হলো যে, সে নিজের দড়িটি নিয়ে বের হয়ে, খড়ি কুড়িয়ে নিজের পিঠে খড়ির বোঝা বহন করে তা বাজারে বিক্রয় করবে, এভাবে আল্লাহ তার সম্মান রক্ষা করবেন। এভাবে করা তার জন্য উত্তম মানুষের কাছে চাওয়া বা ভিক্ষা করার চেয়ে, মানুষ দিতেও পারে নাও দিতে পারে। বুখারী, আস-সহীহ ২/৫৩৫, ৫৩৮।

আনাস (রা) বলেন, একজন আনসারী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) এর নিকট আগমন করে সাহায্য প্রার্থনা করে। তিনি বলেন, তোমার বাড়িতে কি কিছুই নেই। লোকটি বলে, একটি কাঁথা আছে যার কিছুটা আমরা বিছিয়ে দিই এবং কিছুটা গায়ে দিই এবং একটি পেয়ালা আছে যাতে আমরা পানি পান করি। তিনি বলেন, দুইটিই আমার কাছে নিয়ে এস। তখন লোকটি সেগুলি এনে তাঁকে দেয়। তিনি তা নিয়ে বলেন, কে এই দ্রব্যদুইটি ক্রয় করবে। একব্যক্তি বলেন, আমি এক দিরহামে (রৌপ্যমুদ্রা) উভয়কে কিনতে চাই। রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তখন দুই বা তিনবার বলেন, এক দিরহামের বেশি কে দিবে? তখন একব্যক্তি বলেন, আমি দুই দিরহামে দ্রব্য দুইটি খরিদ করব। রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তখন দ্রব্য দুইটি তাকে প্রদান করেন এবং দিরহামদ্বয় আনসারীকে দিয়ে বলেন, এক দিরহাম দিয়ে তুমি খাদ্য ক্রয় করে তোমার স্ত্রীর নিকট রেখে আস এবং অন্য দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার কিনে আমার নিকট নিয়ে এস। লোকটি কুঠার নিয়ে আসলে, রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) নিজ হাতে তার আছাড়ি লাগিয়ে বলেন, তুমি কাঠ কাটবে এবং তা বিক্রয় করবে। ১৫ দিন যেন আমি তোমাকে না দেখি। লোকটি নির্দেশ মত কাজ করে। এই ১৫ দিনে সে দশ দিরহাম উপার্জন করে। কয়েক দিরহাম দিয়ে সে কাপড়চোপড় ও খাদ্য ক্রয় করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তাকে বলেন, তুমি অন্যের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলে তা কেয়ামতের দিন তোমার চেহারায় ক্ষত হিসাবে প্রতিভাত হতো। তার চেযে এভাবে পরিশ্রম করে স্ববলম্বী হওয়াই তোমার জন্য উত্তম।

তিরমিযী, আস-সুনান ৩/৫২২; আবূ দাউদ, আস-সুনান ২/১২০; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ২/৭৪০। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে জুরাইজ নামে একজন আবিদ ছিলেন। তিনি মাঠের মধ্যে একটি খানকায় আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করতেন। একদিন তার আম্মা এসে বাইরে থেকে ডাকেন, জুরাইজ, আমি তোমার মা, তুমি কথা বল। ঘটনাচক্রে জুরাইজ তখন নামায পড়ছিলেন। তিনি মনে মনে বলেন, আল্লাহ, একদিকে মা আরেক দিকে সালাত, আমি কি করি? এরপর তিনি সালাতকেই বেছে নিলেন, মায়ের ডাকে সাড়া দিলেন না। এ ভাবে তিন বার তার মা তাকে ডাকেন এবং তিনবারই তিনি দ্বিধা করার পর সালাত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তার মা বলেন, আল্লাহ আমি জুরাইজকে ডাকলাম, অথচ সে সাড়া দিল না, আল্লাহ তুমি তাকে ব্যভিচারিনীর মুখ না দেখিয়ে মৃত্যু দিও না- রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেন, যদি মা পাপে জড়ানো বা এর চেয়ে কোনো কঠিন দুআ করত তবে তাও কবুল হতো-। ঘটনাচক্রে একজন রাখাল জুরাইজের খানকায় থাকত। গ্রামের একজন মহিলা মাঠে বের হলে উক্ত রাখাল তার সাথে ব্যভিচার করে এবং মেয়েটি গর্ভবতী হয় এবং একটি শিশু প্রসব করে। গ্রামবাসী তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে বলে, উক্ত খানকাওয়ালা এর জন্য দায়ী। তখন গ্রামবাসী তার খানকা আক্রমন করে ভেঙ্গে ফেলে। অবস্থা দেখে জুরাইজ দু রাকাত সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে কাঁদাকাটা করে শিশুর কাছে এসে তার মাথায় হাত দিয়ে প্রশ্ন করেন, তোমার পিতা কে? শিশু বলে, অমুক রাখাল। দুগ্ধপোষ্য শিশুর মুখে কথা শুনে গ্রামবাসী জুরাইজের বুজুর্গি বুঝতে পারে ও অনুতপ্ত হয়।”

বুখারী, ২/৮৭৮, ৪/১২৮৬; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৯৭৬, ১৯৭৭।

জুরাইজ যদি আলিম হতেন তাহলে বুঝতেন যে, নামায চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া অনেক বেশি জরুরী ছিল। তার ভাগ্য ভাল যে, মা শুধু ব্যভিচারিণীর মুখ দেখার দুআ করেছিলেন। যদি আরো কঠিন দুআ করতেন তাহলে হয়ত আর বাঁচার উপায় থাকত না।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে পিতামাতার সঠিক খেদমত-এর তাওফীক প্রদান করুন।

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ

 

আরো সংবাদ পড়ুন :

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com