Breaking News
Home / News Headlines (Bangla) / বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সাফল্য
[সংগ্রহ চিত্র]

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সাফল্য

[সারাদেম] দেশের রাজধানী এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল-লাইন ডুয়েল-গেজ বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।



যমুনা নদীর ওপরে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে ডাবল লেনের এই রেললাইন সেতু। নির্মিত হলে এটি হবে দেশের বৃহত্তম রেল সেতু। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু রেলসেতু হবে বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকসহ প্রায় চার দশমিক ৮০ কিলোমিটার। সেতুর উভয়প্রান্তে প্রায় দশমিক শূন্য পাঁচ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, প্রায় সাত দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট অ্যান্ড এবং লুক ও সাইডিংসহ মোট প্রায় ৩০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে।



বঙ্গবন্ধু রেল সেতু ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক হওয়ায় পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলোর ক্রসিংজনিত কারণে আগের মতো স্টেশনগুলোতে অপেক্ষা করতে হবে না। ফলে সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলোর রানিং টাইম আনুমানিক ২০ মিনিট কমবে, পরিচালন ব্যয় কমবে এবং রেলওয়ের আয় বাড়বে। এ সেতুতে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।



২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এ রেলসেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। ওই বছরই সেতুটি ট্রেন চলাচলের জন্য চালু করা হবে।
যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে আরেকটি রেলসেতু হবে। মূলত পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে রেলপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে এ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটে সহজে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনেও এ সেতুটি কাজে লাগবে। এ জন্য ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যমুনা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।



পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বঙ্গবন্ধু সেতুর রেলপথে ওজন সীমাবদ্ধতার কারণে ভারী পণ্যবাহী ট্রেন চলতে পারে না। এ সেতুতে ট্রেনও পূর্ণ গতিতে চলতে পারে না। এ প্রকল্পে জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা প্রতিষ্ঠান জাইকা ৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা দেবে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। সম্পূর্ণ স্টিল দিয়ে এ সেতুটি নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের সমীক্ষা শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
এ প্রকল্পটিসহ গতকালের একনেকে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭১২ কোটি টাকার মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।



একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, ২ হাজার ১০৮ কোটি টাকার স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম, ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো ও গবেষণা সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ, ২১৬ কোটি টাকার জাতীয় ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল স্থাপন, ২০ হাজার ৫০১ কোটি টাকার ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ, ১ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ, ১ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকার বাংলাদেশ (ভেড়ামারা)-ভারত (বহরমপুর) বিদ্যমান গ্রিড আন্তসংযোগের ক্ষমতা বর্ধিতকরণ (৫০০ মেগাওয়াট), ৭৭৬ কোটি টাকার আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প, ৭৩২ কোটি টাকার সমগ্র দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, ৬১৯ কোটি টাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণ এবং ৭১৬ কোটি টাকার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বন্যা ও জলাবদ্ধতা ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহের উন্নয়ন এবং নালা, প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প।



কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই রুটে দিনে সর্বোচ্চ ২২টি ট্রেন চলাচল করতে পারে।
এসব বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত রেল সেতু এবং একটি ডাবল-লাইন ডুয়েল-গেজ লাইন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটি ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে যা ২০২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।



অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে ৭ হাজার ৭২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে এবং ২ হাজার ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে আসবে।
তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিশদ নকশা তৈরির পর দুটি মূল কাজের ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও জমি অধিগ্রহণ, জমি ইজারা এবং একটি যাদুঘর নির্মাণের ব্যয়ও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করায় মোট ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। ৩ মার্চ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করা হয় এবং এর মেয়াদ ২০২৩ সাল থেকে দুই বছর বাড়ানো হয়।
প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মোট অর্থের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৪ হাজার ৬৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং জাইকা ১২ হাজার ১৪৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা সরবরাহ করবে।
২০১৪ সালের ২৫ থেকে ২৮ মে টোকিও সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সাথে সাক্ষাতকালে জাপানকে এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।



পরে, ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ঢাকা সফরে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি উত্থাপন করেন।

[সূত্র : betar gov bd ]

আরো সংবাদ পড়ুন :

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com