Breaking News
Home / News Headlines (Bangla) / প্রকৃত যোদ্ধা হিসেবে সনদ পেতে অপেক্ষমান এক যোদ্ধা

প্রকৃত যোদ্ধা হিসেবে সনদ পেতে অপেক্ষমান এক যোদ্ধা

  • ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা নির্দিষ্ট করনে সত্যিকারের যোদ্ধারা একটু ক্ষুদ্ধ
    – খালেদ হাসান ( প্রধাণ সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য দায় ) ।
[বিশষ প্রতিবেদন] মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য যে যাচাই-বাছাই শুরু হচ্ছে, তাতে হয়রানি ও সম্মান হানি হচ্ছে দেশব্যাপী আসল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।
এই যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে সারা দেশে হয়রানির কিছু ফাঁদ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তালিকায় নাম রাখার আশ্বাস দিয়ে অনেক জায়গায় আর্থিক লেনদেন শুরু হয়ে গেছে। ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামও রয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায়। এ নিয়ে নানাভাবে হয়রানি হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধারা।


জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) গত ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৭১তম সভায় ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ‘বেসামরিক গেজেট’ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সিদ্ধান্ত অনুসারে, একই দিনে সারা দেশে উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার তারিখ ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ১৯ ডিসেম্বর তারিখ ঘোষণা করা হলেও পরে এই তারিখ পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে গত ৮ ডিসেম্বর।


যাচাই-বাছাইয়ের আওতাভুক্ত ৩৯ হাজার ৯৬১ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। এই তালিকায় দেখা যায়, ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—এমন মুক্তিযোদ্ধাদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ের এই উদ্যোগ নিয়েও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তা বা মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃত ৩৩ ধরনের প্রমাণকে অন্তর্ভুক্ত থাকলে, তিনি যাচাই-বাছাইয়ের আওতার বাইরে থাকবেন। কিন্তু এ ঘোষণা দেওয়ার পরও মুক্তিযোদ্ধারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। আর যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায় নাম থাকায় ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় যাঁদের নাম রয়েছে, সেসব মুক্তিযোদ্ধা বিব্রত বোধ করছেন।
যখন-তখন যাচাই-বাছাইয়ের নামে যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানির সম্মুখীন করা হচ্ছে, তা মোটেও কাম্য নয়। এতে একদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেমন সম্মান হানি হচ্ছে তেমনি হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে নানা স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকীতে এসে এমন পদক্ষেপ অতীব দুঃখজনক বলে মনে করেন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা গণ।


প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, জাতীয় বীরদের তালিকা অবশ্যই চূড়ান্ত হতে হবে। কোনো অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়ে থাকলে তাঁকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্ত কিংবা সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে সবার নাম প্রকাশ করা খুবই বিব্রতকর, অবমাননাকরও। তা ছাড়া গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এতে ত্রুটি থাকলে সেটা সরকারি কর্মকর্তাদের ত্রুটি। এই দায় অন্যদের ওপর বর্তায় না।
কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলা একজন সেনা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: খয়বর আলী দুঃখের সহিত  জার্নালিজম কে বলেন, আমি একজন সেনা সদস্য আমি ১৯৭১ সালে ১লা এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করি এবং সেই সময় দেশের পরিস্থিতি যুদ্ধরত ছিল। সেনা সদর দপ্তর থেকে আমাকে মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সনদপত্র প্রধান করা হয়, এবং লাল মুক্তিবার্তায় আমার নাম প্রকাশ রয়েছে। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও দেশ রক্ষার স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করা সত্ত্বেও আজ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায় আমার নাম সহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামও এসেছে। সবাই অনেক বয়স্ক, দলিল-দস্তাবেজ নিয়ে তাঁদের বারবার যাচাই-বাছাই কমিটির সামনে হাজির হতে হচ্ছে। এতে করে হয়রানি ও সম্মানহানি হতে হচ্ছে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, কেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এই দুর্ভোগের শিকার হবেন? কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও জামুকাকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে


এদিকে উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে অনেক জায়গায়। তালিকা থেকে বাদ না দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি আর্থিক লেনদেন শুরু করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার একজন মুক্তিযোদ্ধা নাম না প্রকাশ করার শর্তে দৈনিক কুড়িগ্রাম প্রতিদিন কে জানিয়েছেন, তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। তাঁর যাতে কোনো সমস্যা না হয় এর জন্য যাচাই-বাছাই কমিটির একজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কিছু টাকাও দিয়েছেন


যাচাই-বাছাইয়ের ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধারা যাতে হয়রানির শিকার না হন তার জন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেসব মুক্তিযোদ্ধার নাম ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় রয়েছে, তাঁদের যাচাই-বাছাইয়ের বাইরে রাখতে এরই মধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা থেকেও তাঁদের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

[উপরিউক্ত তথ্য এবং সকল সত্যতা খালেদ হাসান দেশপ্রেম ও বিবেক বোধ দায়ী ]

রো সংবাদ পড়ুন :

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com