Breaking News
Home / News Headlines (Bangla) / প্রশংসায় পঞ্চমুখ বদলগাছীর হ্যান্ডবল কন্যারা

প্রশংসায় পঞ্চমুখ বদলগাছীর হ্যান্ডবল কন্যারা

    • অর্থ সংকট শত বাধা আর গুঞ্জনকে পেছনে ফেলে প্রশংসায় পঞ্চমুখ  বদলগাছীর হ্যান্ডবল কন্যারা
      খালিদ হাসান মিলু  ( সিনিয়র সবাদ দাতা ও তথ্য দায় )




[ খেলাধূলা, সারাদেশ ] অর্থ সংকটসহ শত বাঁধার মাঝেও হ্যান্ডবলে আলো ছড়িয়ে আসছে নওগাঁর বদলগাছীর ‘মহিলা হ্যান্ডবল টিম’। যুব গেমসে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে এই দলটি। এক সময় এসব কন্যাদের নিয়ে এলাকাবাসীর মুখে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও এখন সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অর্থ সংকটসহ শত বাধা আর গুঞ্জনকে পেছনে ফেলে এসব কন্যারা হ্যান্ডবল খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ গোট বিশ্বে নিজেদের তুলে ধরতে চায়। স্থায়ীভাবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে অভাবকে জয় করে হ্যান্ডবল কন্যারা বাংলাদেশকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ লাবণ্যপ্রভা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যাপীঠের অধিকাংশ মেয়ে আদিবাসী, গরিব ও অসহায় হলেও খুব মেধাবী। ১৯৯৯ সালে লাবণ্যপ্রভা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তঃজেলা হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে মেয়েদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় ‘মহিলা হ্যান্ডবল টিম’। তখন থেকে পথচলা শুরু এই দলের। দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করা নিম্নবিত্ত পরিবারের এসব মেয়েরা তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না। এদের সবাইকে শত অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। এসব মেয়েদের বাবারা কেউ ভ্যানচালক, কেউবা দিনমজুর। আবার কারও বাবা কৃষক। তবুও তাদের চোখে মুখে অনেক স্বপ্ন। চঞ্চল প্রকৃতির ও দুরন্তপনা এসব হ্যান্ডবল কন্যারা সবাই বদলগাছী লাবণ্যপ্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বদলগাছী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।
এ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে দুইবার চতুর্থ, দুইবার তৃতীয়, একবার রানার আপ এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ যুব গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গৌরব অর্জন করে তারা। ২০১৮ সালে যুব হ্যান্ডবলে রানার্স আপ, ২০১৬ সালে ফেডারেশন কাপে তৃতীয় ও ২০২০ সালে চতুর্থ হয় দলটি। বর্তমানে এই টিমে ১৫ জন মেয়ে খেলোয়াড় আছে।
দলটির সদস্য পূর্ণিমা রানী জাতীয় দলের হয়ে থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, নেপাল ও শাহিদা ভারত, নেপাল এবং স্বর্ণা ভারত, নাজমিন ভারত সফর করেছে।


দলের অন্য সদস্যরা জাতীয় পর্যায়ে খেলে থাকে। এ ছাড়াও খেলোয়ারদের মধ্যে ২ জন পুলিশে, ১জন বিজেএমসি, ২জন আনসার বাহিনীতে ও ১জন সেনাবাহীনিতে চাকুরি করছেন। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে এই দলের পথচলায় বড় কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বদলগাছী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহকারী সম্পাদক ও কোচ রজত গোস্বামী  বলেন, শত সমস্যা ও প্রতিবেশীদের বাঁধা পেরিয়ে হ্যান্ডবল খেলি। তবে অর্থ সংকট এই দলের সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা। এই দলকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। তাই আমরা চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার। শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আশার স্বপ্ন দেখছেন এ সমন্বয়ক।



বদলগাছী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এম জামান পিন্টু বলেন, শুধু ক্রীড়া সংস্থা বা হ্যান্ডবল ফেডারেশন নয়। সমাজের ক্রীড়ামোদী বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।



নওগাঁ জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবু জাফর মাহমুদুজ্জামান বলেন, ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সব সময় সহযোগিতা করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের একক প্রচেষ্টায় সবকিছু পূরণ করা সম্ভব নয়। আগামীতেও সহযোগিতা করার ধারা অব্যাহত রাখা হবে।
ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহির বলেন, আমাদের হ্যান্ডবল কন্যারা এই উপজেলার গর্ব। শুধু এই উপজেলারই নয় গোটা বাংলাদেশের গর্ব। এবং তারা খুব দরিদ্র তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে যথাসধ্যভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরাও এগিয়ে আসলে আমদের এই হ্যান্ডবল টিম একদিন বাংলাদেশকে অনেক দুরে নিয়েযাবে এবং দেশের মুখ উজ্জল করবে।



আরো সংবাদ পড়ুন :

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com